নাইজারের রাজধানী নিয়ামির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোলাগুলি ও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুটি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে প্যান-আফ্রিকান এয়ারলাইন্স আস্কি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে নাইজার কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানির জন্য ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল চালান বিমানবন্দরে রয়েছে।
সামরিক সরকার দেশের ইউরেনিয়াম খনিগুলোকে জাতীয়করণ করার পর ফ্রান্সের সাথে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে বিমানবন্দরে আটকা পড়ে ওই চালানটি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাতে নিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।’
নিয়ামি বিমানবন্দরটি ‘বেস এরিয়েন ১০১’ নামের একটি সামরিক ঘাঁটির পাশে অবস্থিত, যা আগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ব্যবহার করত।
আস্কির একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়ামি বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে উড়োজাহাজে একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় বিমানের কর্মীরা হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং বর্তমানে তারা সেখানে আটকা পড়ে আছেন।
ওই সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দুটি বিমানই ধ্বংস হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে তার প্রমাণ রেখে গেছেন হামলাকারীরা।
বিবিসি বলছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বিমানবন্দর এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল প্রতিহত করতে দেখা গেছে।
কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ কি এবং কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির নতুন নেতা হন জেনারেল আবদুরাহমানে তচিয়ানি।
ইউরেনিয়ামের অন্যতম প্রধান উৎপাদক এই দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
