দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিত্রনায়ক শাকিব খান বলেছেন, ‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়—বাংলাদেশের সংবাদজগতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেইলি স্টার এক নির্ভীক ও মর্যাদাসম্পন্ন কণ্ঠস্বর হিসেবে অবিচলভাবে কাজ করে চলেছে। এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল একটি সংবাদমাধ্যমের সাফল্যের গল্প নয়; এটি একটি সমাজের চিন্তাশীল হয়ে ওঠার সাক্ষ্য।’
দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সিনেমায় দ্য ডেইলি স্টারের ভূমিকার প্রশংসা করে শাকিব খান বলেন, এটি সময়ের দলিল, রাষ্ট্রের বিবেক এবং ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
শাকিব খান বলেন, ‘একটি জাতির পথচলা কেবল উন্নয়ন পরিসংখ্যান বা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে নির্ধারিত হয় না; নির্ধারিত হয় তার চিন্তা, মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থানের মাধ্যমে। সেই মূল্যবোধ গড়ে ওঠে সেই সব কণ্ঠের মাধ্যমে, যা সত্যকে ভয় না পেয়ে তুলে ধরে, সমাজের অসংগতিকে প্রশ্ন করে এবং মানুষকে ভাবতে শেখায়।’
ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক বলেন, সময়, প্রযুক্তি ও চ্যালেঞ্জ বদলালেও ডেইলি স্টার তার সত্যনিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও নৈতিক অবস্থানের প্রতি অঙ্গীকার অটুট রেখেছে।
শাকিব খান আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্য বলা এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা। রাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমের উচিত তথ্যভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাহসী অবস্থান নেওয়া। একটি সচেতন সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ভাবতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
সংবাদজগতে সংস্কৃতি ও শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের শিল্প, সাহিত্য, সিনেমা ও সংগীতই সেই জাতির আত্মার প্রকাশ। ডেইলি স্টার বহু বছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও সৃজনশীল শিল্পচর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে, যা আমাদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমা নিছক বিনোদন নয়। এটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সময়ের প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের সিনেমাকে সম্মান দেওয়া মানে সেই দেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে সম্মান দেওয়া। এই উপলব্ধি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ডেইলি স্টার শিল্প-সংস্কৃতির পাশে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার।’
শাকিব খান বিশ্বাস করেন, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমে রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি সমাজ, মানবাধিকার এবং সংস্কৃতিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি ছাড়া উন্নয়ন একপাক্ষিক হয়, আর মানবিকতা ছাড়া রাষ্ট্রের অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় বহু চাপ, সংকট ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও মূল নীতি ও মূল্যবোধ ধরে রাখা সহজ নয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলেই পাঠকদের আস্থা অটুট রয়েছে। ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরের এই গৌরবময় যাত্রায় যারাই যুক্ত ছিলেন সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ভবিষ্যতেও সত্য, সংস্কৃতি ও মানুষের পক্ষে নির্ভীকভাবে কথা বলার প্রত্যাশা রইল। আরও বহু বছর সাহসিকতার সঙ্গে আলো ছড়াক সত্য ও মানবিকতার পথে। দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করুক।
