7.1 C
New York

ঢাকায় আনা হচ্ছে হুজাইফাকে, সংকটাপন্ন হানিফ

কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলা সংঘর্ষের সময় ওপার থেকে আসা গুলিতে বিদ্ধ বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের পরও চিকিৎসকরা গুলিটি অপসারণ করতে ব্যর্থ হন, কারণ এটি মস্তিষ্কের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশে আটকে আছে। গুলিটি অপসারণের যেকোনো চেষ্টা শিশুটির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।’

‘এ কারণে রোগীকে ঢাকার বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা শিশুটিকে আরও ভালোভাবে সামলাতে পারবেন,’ যোগ করেন তিনি।

যা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সংলগ্ন মিয়ানমারের টোটার দ্বীপ এলাকায় গত কয়েকদিন তীব্র সংঘর্ষ চলে। রোববার সকালে ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত হয় তেচ্ছি ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে হুজাইফা।

ওই দিনই সন্ধ্যায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। গভীর রাতে চিকিৎসকরা শিশুটির সিটি স্ক্যান এবং পরে অস্ত্রোপচার করেন। তবে মাথার ভেতরে থাকা গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি।

একই ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হানিফের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত তার বাম পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

গতকাল সোমবার রাত ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার হয় হানিফের।

আজ হানিফের ভাই আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আনোয়ার বলেন, ‘বিস্ফোরণে হানিফের ডান পায়ের মাংস ছিঁড়ে যাওয়ায় সেটিও গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এবং তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।’

তার পরিবার এখনো কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি বলেও জানান আনোয়ার।

সোমবার সকালে নাফ নদীর কাছে সীমান্ত লাগোয়া একটি মৎস্য প্রকল্পে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন হানিফ।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের ধাক্কায় হানিফ নদীতে ছিটকে পড়েন এবং জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় আরাকান আর্মি সীমান্ত এলাকায় ওই স্থলমাইনটি পুঁতে রেখেছিল।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিউ সোয়ে মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

 

Related Articles

Latest Articles