ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে বসতে রাজি হননি।
আজ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের কোনো আলোচনায় আমার আগ্রহ নেই, এ কথা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। আমি বলেছি, যদি কখনো কথা হয়, তা ১২ তারিখের পর হবে।’
‘তারা যখন বুঝেছে নিশ্চিতভাবেই এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে আমি জয়ী হতে যাচ্ছি, তখন যোগাযোগ করে বলেছে তাদের সঙ্গে বসলে ভালো হবে। এমপির চেয়ে আরও বড় কিছু পাব। আমি না বলে দিয়েছি,’ বলেন তিনি।
ভোটের পর কয়েকটি ফোনকল পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। ‘হয়তো কেউ অভিনন্দন জানাতে ফোন দিয়েছে। আমি জানি না। তবে এসব বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই,’ বলেন রুমিন।
বিএনপির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছে। আমার দল বলে তো কিছু নেই। এটা তারেক রহমান সাহেবের দল। তিনি আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের।’
গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যেই নির্বাচনের জন্য বিএনপির এত লড়াই সংগ্রাম গত ১৭ বছর ধরে, গতকালের নির্বাচনে তাদের আচার-আচরণ বিভিন্ন জায়গায় খুব ভালো ছিল না। আওয়ামী লীগের ছায়া তাদের মধ্যে কিছু কিছু এখনই দেখতে পাচ্ছি। দলের বিগত ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি জুলুম, দখল, অবৈধ ব্যবসা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি। আমি কি এখন এগুলোর সঙ্গী হব, নিশ্চয়ই নয়। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের।’
‘আমি আশা করব বিএনপি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যে ভুলগুলো করেছে, তার রিপিটেশন হবে না। গত দেড় বছরে তারা নানাভাবে মানুষকে বিরক্ত করেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি হবে না, বিএনপির প্রতি এটাই আমার আশা থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
নিজের জয়কে ভোটারদের সম্মিলিত বিজয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেসব পদধারী নেতা আমাকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করেছে আমি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। তারা যদি এমন আচরণ না করত, তাহলে আমি এত ভোটের ব্যবধানে জয় পেতাম না।’
সংসদে ভূমিকা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, তিনি সত্য বলবেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন।
‘আমি প্রায় ৫ লাখ ভোটারের প্রতিনিধি। আমার দায়িত্ব তাদের প্রতিই। দেশের মানুষের পক্ষে আমার ভূমিকা থাকবে। যা সত্য পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে আমি তাই বলব। আমি মানুষের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব,’ যোগ করেন তিনি।
বাবার স্মৃতিচারণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের নেতা আমার বাবা অলি আহাদ ১৯৭৩ সালে এই আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা হওয়ার পরের দিন সেই ফলাফল পরিবর্তন করা হয়। সে সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্ণধার আমার বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন, কি অলি আহাদ, আমাকে ছাড়া জিততে পারলা না?’
এ আসনে বিএনপি যথেষ্ট কারচুপির চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নয় বরং বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে হারাতে আমার বিরুদ্ধে নেমেছিল। কারণ তারা ভেবেছিল আমি রুমিন ফারহানা হয়েছি কেবল বিএনপি করতাম বলে। তারা বলেছিল রুমিনকে হারাতেই হবে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবকিছু নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখলে এখানকার বিএনপির কর্ণধাররা জোর খাটাত।’
রুমিন ফারহানার জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শাহবাজপুরে তার গ্রামের বাড়িতে নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকেই তারা ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
