1.4 C
New York

‘বাবরকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের মুখে পাকিস্তান’: পন্টিংয়ের সতর্কবার্তা

পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকাকে নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বাবর আজম, যাকে ঘিরে বছরের পর বছর ভরসা, আত্মবিশ্বাস আর নেতৃত্বের গল্প লেখা হয়েছে, তাকে নিয়ে এবার খোলাখুলিভাবে ‘বড় সিদ্ধান্তের’ কথা বললেন রিকি পন্টিং। আইসিসি হল অব ফেমার এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির সঙ্গে একই সুরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রীও। দুজনের বিশ্লেষণে স্পষ্ট, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বাবরের ভূমিকা, ব্যাটিং পজিশন এমনকি দলে থাকা নিয়েই নতুন করে ভাবতে হতে পারে পাকিস্তানকে।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তান তিন উইকেটের জয় পেলেও বাবরের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো নিষ্প্রভ। ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করে ফেরেন তিনি। যদিও বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ফিফটি করেছিলেন বাবর, তবু পন্টিংয়ের মতে, তার ব্যাটিংয়ে এখন আর আগের সেই স্বাভাবিক টাইমিং ও পাওয়ার দেখা যাচ্ছে না।

পন্টিংয়ের বিশ্লেষণে বাবরের সমস্যাটা শুধু ব্যক্তিগত ফর্মের নয়, বরং দলের সামগ্রিক ছন্দের সঙ্গেও জড়িয়ে। তার ভাষায়, “১৮ বলে ১৫ রান করলে শুধু নিজের ওপর নয়, অপর প্রান্তের ব্যাটারের ওপরও চাপ পড়ে। তখন অন্য প্রান্তের খেলোয়াড়কে বাউন্ডারির দায়িত্ব নিতে হয়। বাবরের শুরুতেই বাউন্ডারি দরকার। প্রথম ছয় বলে অন্তত দুটো বাউন্ডারি না হলে ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে যেতে বাধ্য।”

রবি শাস্ত্রী মনে করেন, বাবরের তারকা পরিচয়ই এখন তার জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। “এই পর্যায়ে এসে একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে একটা প্রত্যাশার ভার থাকে। সবাই ধরে নেয়, সে নামলেই ডেলিভার করবে।  প্রথম পাঁচ বলেই দুটো বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করতে হবে। আউট হলেও সমস্যা নেই। সাহসী মানসিকতাই সবচেয়ে জরুরি,” বলেন শাস্ত্রী।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাবর ব্যাট করেন চার নম্বরে, যা তার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করেন পন্টিং। তার মতে, বাবরের ব্যাটিংয়ে এখন পাওয়ার স্ট্রাইকিংয়ের ঘাটতি স্পষ্ট।
“আগে যেভাবে স্পিনারদের ওপর চড়াও হতো, এখন সেটা দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, সে কিছুটা পাওয়ার হারিয়েছে। পাকিস্তান যদি এই টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে চায়, তাহলে বাবরের সেরা ভার্সনটাই দরকার,” বলেন পন্টিং।

এই বাস্তবতা থেকেই বাবরের ব্যাটিং পজিশন বদলের প্রস্তাব দেন পন্টিং। বাবরকে আবার নম্বর তিনে নামানোই সমাধান জানিয়ে বলেন, “পাওয়ারপ্লেতে ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন থাকলে বাবরের জন্য সুবিধা হবে। দুই ফিল্ডার বাইরে থাকলে বল স্ট্রাইক করা সহজ হয়। যদি পাওয়ার একটু কমে গিয়ে থাকে, তাহলে এই সুবিধাটাই কাজে লাগাতে হবে। পরে যারা ব্যাট করবে, তাদের যথেষ্ট পাওয়ার আছে, তারা মিডল ওভার সামলাতে পারবে।”

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটা আসে শেষে, “পাকিস্তানের সামনে বড় সিদ্ধান্ত, বাবরকে আগের মতোই রাখবে, নাকি তার ভূমিকা ও অবস্থান বদলাবে, এমনকি তাকে বাইরে রাখার কথাও ভাববে।”

রবি শাস্ত্রীও বাবরের জায়গা নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেছেন, “প্রশ্ন উঠবেই। সে নিঃসন্দেহে কোয়ালিটি খেলোয়াড়, দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে মিডল ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানে বেশি সময় নেওয়ার সুযোগ নেই।”

পাকিস্তানের পরের ম্যাচ ১১ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

Related Articles

Latest Articles