-0.2 C
New York

ভোটের আগের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কম, তবু পরিবর্তনের প্রত্যাশায় চা-শ্রমিকরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ভোটের মাঠে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির তালিকাও দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। তবে সিলেটের চা-বাগান শ্রমিকদের কণ্ঠে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বাস্তবায়ন না হওয়া আশ্বাসের হতাশা। 

 

তাদের অভিযোগ, দশকের পর দশক ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে কথা বললেও ভোটের পর তাদের জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাই এবার চা-শ্রমিকদের প্রত্যাশা এমন জনপ্রতিনিধি, যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

 

চা শ্রমিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হলেও তাদের ভাষ্য, প্রার্থীরা কেবল নির্বাচনের সময়ই তাদের খোঁজ নেন। ভোট শেষ হলে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আর চোখে পড়ে না।

 

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকরা জানান, ভাঙাচোরা সড়ক, নিরাপদ পানির সংকট, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের অনুপস্থিতি এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো সমস্যাগুলো বছরের পর বছর ধরেই তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে।

 

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের ১৫৮টি চা-বাগানে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন।

 

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ভোট অনেক সময়ই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি।

 

চন্ডিছড়া চা-বাগানের শ্রমিক রতন ঘাটোয়াল বলেন, পরিবার চালাতে তিনি তার ছয় মাসের শিশুকে সঙ্গে নিয়েই কাজে যান। তিনি বলেন, আমরা কাকে ভোট দেব? নির্বাচন শেষ হলে তারা আর আমাদের পাশে থাকে না।

 

একই বাগানের আরেক শ্রমিক মেঘনা মৃধা বলেন, আমরা এখনো ঠিক করিনি ভোট দেব কি না।

 

সিলেটের খাদিম চা-বাগানের শ্রমিক রঞ্জন কুর্মি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে। প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় সমাধানের কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না।

 

হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া চা-বাগানের বাসিন্দা নয়ন বাউরি বলেন, এবার শ্রমিকরা আরও সতর্ক থাকতে চান। আমরা বুঝেশুনে ভোট দেব। যিনি সত্যিই আমাদের উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই দেব।

 

মৌলভীবাজারের চাতলাপুর চা-বাগানের তরুণ বাসিন্দা সুমন গোয়ালা বলেন, পর্যটন খাত যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হতো, তাহলে কাজের খোঁজে আমাদের এলাকা ছেড়ে বাইরে যেতে হতো না।

 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কমলগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল এস পালাশ বলেন, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি উদ্যোগ খুবই সীমিত। তার মতে, প্রার্থীদের পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি

 

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরছেন।

 

বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তার প্রধান অগ্রাধিকার।

 

মৌলভীবাজার-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ বলেন, নির্বাচিত হলে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং হাওর-টিলা অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে কাজ করব।

 

একই আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী মো. আবুল হাসান পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির মালিকানা অধিকার নিশ্চিত করা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া তার মূল লক্ষ্য।

Related Articles

Latest Articles