শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা যাবে। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে বা দেরিতে এলে সঙ্গে সঙ্গে ‘অ্যাটেনডেন্স অ্যালার্ট’ তৈরি হবে। যদি তিন দিন পরপর বিদ্যালয়ে না আসে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন চলে যাবে অভিভাবকের মোবাইলে। এসব ফিচার নিয়ে আসছে অত্যাধুনিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ‘শিক্ষাব্রিজ’।
সফটওয়্যারটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান আম্বিয়াজ। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসবে এই সফটওয়্যার, যা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১০টি স্কুলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্কুলকে এই সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকনুজ জামান।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। নির্বাচনের পরই ‘শিক্ষাব্রিজ’ কার্যক্রম শুরু হবে।
রোকনুজ জামান বলেন, এই উদ্যোগ স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। সফটওয়্যারটি ব্যবহারের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গতি আসবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষাব্রিজ সফটওয়্যারের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি থাকবে, যার মাধ্যমে তার পুরো শিক্ষাজীবনের ডেটা সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষার্থী এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে গেলেও আইডি অপরিবর্তিত থাকবে। সফটওয়্যারটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত বা দেরিতে এলে সঙ্গে সঙ্গে ‘এটেন্ডেন্স এলার্ট’ তৈরি হবে।
শিক্ষাব্রিজ সফটওয়্যারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার ও অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই শনাক্ত করা যায়, কোন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। এতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকরা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পরীক্ষার ফলাফল তৈরি, টেবুলেশন শিট জেনারেট ও অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটিই অটোমেটেড।
এ ছাড়া ক্লাসের সিলেবাস আপলোড করার জন্য রয়েছে আলাদা মডিউল। শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি এক ক্লিকে হিসাব করা যাবে। একইসঙ্গে কোন শিক্ষার্থীর কত টাকা বকেয়া আছে, তার রিপোর্ট মুহূর্তেই পাওয়া যাবে। স্কুল বন্ধের ঘোষণা বা জরুরি নোটিশসহ সব তথ্য ‘পুশ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইলে পৌঁছে যাবে।
