একদিনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে হয়েছে। অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একাডেমি চত্বরে এই আয়োজন করেছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’।
মেলা শুরু হবে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মেলার উদ্বোধন করবেন। আয়োজকেরা জানান, ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রতীকী মেলায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের’ যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রকাশক সাঈদ বারী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন,বায়ান্নর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়। অমর একুশে বইমেলা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, অমর একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে বাংলা একাডেমি তথা সরকার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন করে একদিনের মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রকাশক সাঈদ বারী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, দেলোয়ার হোসেন, লেখক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কবি কৌমুদী নার্গিস, সাংস্কৃতিক কর্মী খন্দকার শাহ আলমসহ আরও অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বাংলা একাডেমি গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা করার দাবিতে লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের নিয়ে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়।
বইমেলা কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলে তারা মনে করেন না। তাদের ভাষ্য ছিল, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করে নির্বাচনের দিন ও তার আগে–পরে আরও দুই দিন মেলা বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। বহু জীবনের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ এটা প্রত্যাশা করে না।
এমন পরিস্থিতিতে মহান ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থেকে একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই প্রতীকী বইমেলার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রতীকী এই মেলায় বিশিষ্ট লেখক, কবি, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবেন। আর মেলার মঞ্চে সারা দিনই থাকবে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নাটকসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রাণের টানে ভাষার মাসের প্রথম দিনের বইমেলায় বাংলা সংস্কৃতির অনুরাগীদের বিপুল সমাগম ঘটবে।
