ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রাস্তার পাশে মুন্সিবাড়ী মোড়ের ময়লার ভাগাড়ের পাশে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে—মহল্লা সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনে গলির ভুক্তভোগী জনগণকে দিয়ে গলি সমাজ গঠনের মাধ্যমে গলির নাগরিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে তদারকি ও জবাদিহির কাঠামো গড়ে তোলা; সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছানো ও তার জবাবদিহির জন্য ‘এমপি হটলাইন ও ওয়েবসাইট’ চালু; জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রমাগত রাস্তা উঁচু করে মানুষের বাসাবাড়ি দোকানপাটকে বৃষ্টির পানিতে ডোবানোর ‘ভ্রান্ত’ উন্নয়নের বদলে সহজ, টেকসই পদ্ধতি ও সুলভে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা এবং তিন মাসের মধ্যে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ ও রাস্তা সুরক্ষা চার্টার প্রকাশ করা হবে।
ইশতেহারে বলা হয়, জনগণের সম্মতি নিয়ে এই এলাকার জন্য রাস্তা সুরক্ষা চার্টার প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে। সেই চার্টারে এই নিয়ম থাকবে যে এলাকার যেকোনো রাস্তা খোঁড়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গলি সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে এসে কাজ শেষ করে রাস্তা যেমন ছিল তেমন করে রেখে যেতে হবে।
পানির সংকট নিয়ে স্থানীয় বিশেষ সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিলের বিপরীতে সেবা দিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে বাধ্য করার কথাও ইশতেহারে বলা হয়েছে।
গ্যাস বৈষম্য বন্ধ করতে তিতাসকে বাধ্য করা এবং এলপিজি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার বিক্রয় ট্রাক আনার মাধ্যমে এলাকায় ন্যায্যমূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, আমি সংসদ সদস্য হলে রেললাইনের দুই পাশে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেবো। ময়লা পোড়ানো বন্ধ এবং দূষণকারী কারখানার তালিকা তৈরি ও নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া; শব্দদূষণ বন্ধ করা; ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এলাকার প্রতিটি বাসাবাড়িতে একজন করে ডেঙ্গুযোদ্ধা তৈরি করা; নিয়মিত প্রত্যেক ওয়ার্ডে মাসে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা; ঝুঁকিপূর্ণ অনিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন মেরামতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, নারীদের একটা নারী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেন কোনো নারীর ওপর হামলা বা হয়রানি হলে গলি বা এলাকার নারীরা একসঙ্গে তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিহত করতে পারেন।
পাশাপাশি হকার, টং দোকানদারদের উচ্ছেদ না করে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় আনা এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে সংসদে দেশবিরোধী, প্রাণ-প্রকৃতিবিরোধী প্রকল্প বন্ধ করতে লড়াই করা, বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গোপন চুক্তির বিরোধিতা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজান।
