2.8 C
New York

৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জিতে ফাইনালে আলকারাজ

পেশির টানের (ক্র্যাম্প) তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে পাঁচ সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আলেকজান্ডার জেভেরেভকে পরাস্ত করলেন কার্লোস আলকারাজ। এতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা। সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম’ পূর্ণ করা থেকে তিনি এখন মাত্র এক ম্যাচ দূরে।

শুক্রবার রড লেভার অ্যারেনায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পুরুষ এককের মহাকাব্যিক প্রথম সেমিফাইনালে ৩-২ সেটে জিতেছেন শীর্ষ বাছাই আলকারাজ। প্রথম দুই সেট জিতে চালকের আসনে বসে পড়েছিলেন এই স্প্যানিশ। তবে দমে না গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা টানেন জেভেরেভ। শেষ সেটে গিয়ে অবশ্য আর কুলিয়ে উঠতে পারেননি তৃতীয় বাছাই এই জার্মান। ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের স্মরণীয় দ্বৈরথে ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৬-৭ (৩/৭), ৬-৭ (৪/৭) ও ৭-৫ গেমে তাকে হারিয়েছেন আলকারাজ।

আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। সেখানে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ মুখোমুখি হবেন ইতালিয়ান ইয়ানিক সিনার অথবা সার্বিয়ান নোভাক জোকোভিচের।

তৃতীয় সেটে ৪-৪ গেমে সমতা থাকাকালীন ব্যথায় কুঁকড়ে যান আলকারাজ। তখন টুর্নামেন্ট থেকে তার ছিটকে যাওয়ার এক বিশাল আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সেটি ছিল মূলত পেশির টান। চিকিৎসার জন্য তাকে বিরতি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে জেভেরেভ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুধু তা-ই নয়, ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে তর্কেও জড়িয়ে পড়েন। কারণ, কেবল পেশি টানের জন্য মেডিকেল টাইমআউট নেওয়ার অনুমতি নেই।

সেবা-শুশ্রূষা নিয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী আলকারাজের স্বাভাবিক চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছিল। এর প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে। চলমান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথমবারের মতো সেট হারেন তিনি। চতুর্থ সেটেও তাকে পরাজয় মেনে নিতে হয়। তবে শতভাগ ফিট না থাকা সত্ত্বেও এবং শেষ সেটে ২-০ গেমে পিছিয়ে পড়ার পরও আলকারাজ ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। তার তাড়না দেখে গ্যালারির উপস্থিত দর্শকরাও গর্জে ওঠেন।

এগিয়ে থাকলেও ২৮ বছর বয়সী জেভেরেভ স্নায়ুর চাপে খেই হারিয়ে ফেলেন। আলকারাজ পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৫-৫ গেমে সমতায় ফেরেন। শেষ পর্যন্ত আবারও প্রতিপক্ষের সার্ভিস ব্রেক করে রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

টানা চতুর্থ ও সব মিলিয়ে অষ্টম গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠলেন আলকারাজ। ম্যাচের পর তার ফিরে আসার রহস্য নিয়ে বলেন, ‘সব সময় বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি সব সময় বলি যে, যা-ই ঘটুক না কেন, নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে। যে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যান না কেন, সব সময় আত্মবিশ্বাস রাখা জরুরি। তৃতীয় সেটের মাঝামাঝি আমি বেশ ধুঁকছিলাম। মূলত, এটি ছিল আমার এই ছোট ক্যারিয়ারে খেলা অন্যতম কঠিন একটি ম্যাচ।’

আলকারাজ ইতোমধ্যে দুটি করে ফরাসি ওপেন, ইউএস ওপেন ও উইম্বলডন জিতেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলা আগের চারবারের কখনোই কোয়ার্টার ফাইনাল পাড়ি দিতে পারেননি। যদি তিনি এবার অধরা সাফল্যের স্বাদ নিতে পারেন, তাহলে স্বদেশি রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে ওপেন যুগে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি প্রধান শিরোপাই জেতার কীর্তি গড়বেন। নাদাল ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ পূর্ণ করেছিলেন ২৪ বছর বয়সে।

অন্যদিকে, জেভেরেভের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। তিনি এখন পর্যন্ত কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারেননি। একবার করে খেলেছেন ইউএস ওপেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফরাসি ওপেনের ফাইনালে।

Related Articles

Latest Articles