3 C
New York

‘ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের হাতে’

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ৩০টিরও বেশি ম্যাচ খেললেও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। আগামীকাল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচের আগে দলের ব্যর্থতা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজ। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

বিশ্বকাপের এই যাত্রা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

নাভিদ নেওয়াজ: আমাদের দুটো প্রস্তুতি ম্যাচই বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল, যা আমাদের জন্য কাজটা কঠিন করে দেয়। ভারতের বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য আমাদের ওভার প্রতি সাতের বেশি রান দরকার ছিল। উইকেট ভেজা থাকায় বল নিচু হয়ে আসছিল, দুর্ভাগ্যবশত আমরা সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি।

ম্যাচের অধিকাংশ সময় দাপট দেখানোর পরও ভারতের কাছে হার কি ছেলেদের মানসিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছিল?

নাভিদ: মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার চেয়ে বড় কারণ হলো এশিয়া কাপের পর থেকে ছেলেরা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি; অনেক ম্যাচই বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। এর ফলে দলের ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি হয়।

চাপের মুখে বাংলাদেশ কেন বারবার খেই হারিয়ে ফেলে?

নাভিদ: আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে প্রচুর ম্যাচ খেলিয়ে এই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি। তবে ভারতের দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া পর্যায়ে বিশাল পরিমাণ ক্রিকেট খেলে। আমি ভারতের এক স্কুল ক্রিকেটারের কথা পড়েছিলাম, যে কি না ২৯ হাজার রান ও ২৯টি সেঞ্চুরি করেছে! মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপের মুখে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কেবল বেশি বেশি ম্যাচ খেলার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

নাভিদ: আমাদের দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। হারারেতে নামার পর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যেতে হয়েছে ৬০০ কিলোমিটার দূরে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য আরও ৪৫০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হয় [পরবর্তীতে বিসিবি নিজস্ব খরচে বিমানের ব্যবস্থা করেছিল]। সূচি দেখার পরই আমরা আইসিসি-কে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই ধরণের টুর্নামেন্টে ভ্রমণের ক্লান্তি অবশ্যই পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।

ক্রিকেটের এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের খেলার ধরনে কোনো বদল আনা দরকার কি?

নাভিদ: আমাদের জাওয়াদ আবরারের মতো মারকুটে ব্যাটার আছে। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন আগ্রাসনের ওপরই দাঁড়িয়ে। আমাদের সামর্থ্য নেই—তা বলব না, তবে উইকেটে থিতু হওয়া এবং পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নে আমাদের ঘাটতি ছিল।

এই বিশ্বকাপের পর আপনার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন?

নাভিদ: বিসিবির সঙ্গে এখনও এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসে, যা আমাকে অবাক করে; কারণ ভারত বা শ্রীলঙ্কার মতো আমাদের তৃণমূল কাঠামো অতটা শক্তিশালী নয়। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বেশ ভালো কাজ করছে। এই ধরণের প্রতিভাদের নিয়ে কাজ করাটাই আমার প্রথম পছন্দ।

Related Articles

Latest Articles