সবকিছু ঠিক থাকলে এই সময়ে ফিল সিমন্সের তুমুল ব্যস্ত সময় পার করার কথা ছিল। বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ ভেন্যুতে গিয়ে শুরু করে দিতেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না থাকায় এক অপ্রত্যাশিত ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
বিপিএলের শেষ দিকে ঢাকা এসেছিলেন সিমন্স। উদ্দেশ্য ছিল দলকে নিয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়া। তবে এসেই দেখেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চলছে ঘোর অনিশ্চয়তা। সেই অনিশ্চয়তার রেশ ছিল সিমন্সের চোখেমুখেও। বিপিএলের প্লে-অফ রাউন্ড চলাকালীন মিরপুরের প্রেসবক্সের পাশে পায়চারি করতে করতে এক শুকনো হাসিতে সেই দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
এখন আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই; বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপ খেলছে না, তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। খেলা নেই, তাই স্বাভাবিকভাবেই কাজও নেই। কিছুটা বিষণ্ণতা সঙ্গী করে ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন সিমন্স। দ্য ডেইলি স্টারকে এই কোচ বলেন, ‘আজ আমি ফিরে যাচ্ছি। মার্চে আমাদের পরের সিরিজ, তখন নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। আশা করি তখনই আবার ফেরা হবে।’ জানা গেছে, জাতীয় দলের অন্যান্য কোচিং স্টাফরাও পেয়েছেন অপ্রত্যাশিত ছুটি।
বিপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুনসান নীরবতা। সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য না থাকায় খেলোয়াড়রাও নিজেদের মতো করে ছুটি কাটাচ্ছেন। আপাতত তাই অনুশীলনের কোনো কর্মসূচি নেই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরোপুরি বিরতিতে থাকবে বাংলাদেশ দল। এরপর এফটিপিতে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ রয়েছে, তবে সেই সিরিজের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পিএসএলের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি দুই দফায় খেলার প্রস্তাব আগেই দিয়ে রেখেছে পিসিবি।
জাতীয় দলের খেলা না থাকার এই সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও বিরাজ করছে অনিশ্চয়তা। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাব খেলা বর্জনের ডাক দেওয়ায় শঙ্কার মুখে পড়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। বিসিবি ও ক্লাব কর্তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে দেশের একমাত্র লিস্ট-এ টুর্নামেন্টটি আয়োজন এখন বেশ কঠিন। যে কারণে বিপিএল জেতার পর নাজমুল হোসেন শান্ত আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এরপর তারা ঠিক কবে মাঠে নামবেন, তা তাদের জানা নেই।
