2.1 C
New York

রিয়াল ম্যাচের আগে আরবেলোয়াকে ‘নিজের সন্তানের মতো’ বললেন মরিনহো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবারের বড় লড়াইয়ের আগে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার প্রতি নিজের গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো। সাবেক এই শিষ্যকে নিজের ‘সন্তানের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ড।

বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচটি মরিনহোর জন্য যেমন তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে লড়াই, তেমনি প্রিয় শিষ্য আরবেলোয়ার সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলনীও বটে।

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালের ডাগআউটে থাকাকালীন আরবেলোয়াকে রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পেয়েছিলেন মরিনহো। দলের ভেতরে নানা বিভক্তির সময়েও আরবেলোয়া ছিলেন মরিনহোর অন্যতম বিশ্বস্ত সেনানী।

সম্প্রতি অনভিজ্ঞ কোচদের বড় ক্লাবের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে মরিনহোর একটি মন্তব্যকে আরবেলোয়ার প্রতি খোঁচা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে মরিনহো স্পষ্ট করেছেন যে, তার সাবেক শিষ্যের পথ চলা কঠিন করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৩ বছর বয়সী মরিনহো বলেন, ‘সমস্যা একটা আছে—কিভু এবং আরবেলোয়া দুজনেই আমার সন্তানের মতো। তারা কেবল আমার সাবেক খেলোয়াড়ই নয়, তারা আমার কাছে বিশেষ কিছু।’

আরবেলোয়া সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত পছন্দ আর মানবিক দিক থেকে সে আমার অন্যতম প্রিয় একজন। সে হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় নয়, কিন্তু আমার অধীনে রিয়ালে খেলা অন্যতম সেরা মানুষ সে নিশ্চিতভাবেই।’

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে মরিনহো বলেন, ২০০০ সালে যখন তিনি বেনফিকার দায়িত্ব পান, তখন তিনিও অবাক হয়েছিলেন। তাই তার কথাকে অপমান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই,  ‘আমি তাকে কোনো চাপে ফেলতে চাই না। আমি চাই তার সবকিছু ভালো হোক এবং কোচ হিসেবে তার ক্যারিয়ার চমৎকার হোক।’

‘ফোনে আলাপের প্রয়োজন নেই’

জাবি আলোনসোর উত্তরসূরি হিসেবে আরবেলোয়া রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি মরিনহোর। তবে এর প্রয়োজনও বোধ করছেন না তিনি। মরিনহো বলেন, ‘আমার ফোন নম্বর পাওয়া খুব কঠিন, কারণ ক্লাবের নম্বর ছাড়া অন্যটি কেবল আমার পরিবার জানে। আর অন্য ফোনটি আমি বারবার পরিবর্তন করি।’

যোগাযোগ না থাকলেও সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আলভারোকে শুভকামনা জানাতে ফোন করার দরকার নেই, সে সেটা জানে। সে অবশ্যই কাল বেনফিকাকে হারাতে চাইবে, কিন্তু এরপর সে চাইবে বেনফিকা যেন সব ম্যাচ জেতে। এটাই স্বাভাবিক।’

কোচ আরবেলোয়াকে নিয়ে এখনই কোনো বিশ্লেষণে যেতে চান না মরিনহো। কেবল চান তার শিষ্য যেন এই কঠিন পেশায় সুখে থাকেন।

প্রিয় গুরুর প্রশংসা শুনে আপ্লুত আরবেলোয়াও। তিনি বলেন, ‘হোসের কথাগুলো শুনে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি আমার কাছে কোচের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। আজ আমি তাকে একজন ভালো বন্ধু মনে করি। কাল তাকে দেখার এবং জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় আছি।’

বুধবারের এই ম্যাচে জিতলে রিয়ালের শেষ ১৬ নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে বেনফিকার জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

Related Articles

Latest Articles