আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার (পেশাগত দায়িত্ব পালন) অনুমোদন পাচ্ছেন না বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। সবার অ্যাক্রিডিটেশন (স্টেডিয়ামে ঢোকার কার্ড) আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এর ফলে আয়োজক দেশ দুটির কোনোটিতেই মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ নিয়ে রিপোর্টিংয়ের (প্রতিবেদন করা) সুযোগ থাকছে না বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকর্মীদের। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই ঘটনা ঘটল।
গত শনিবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আজ সোমবার বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমি যতটুকু জানি, সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কেউ অ্যাক্রিডিটেশন পাননি।’
অবশ্য বেশ কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেছেন যে, অল্প কয়েকজন বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার (আলোকচিত্রী) গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি আইসিসির অনুমোদনের ই-মেইল পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে।
দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ আলোকচিত্রী মীর ফরিদ বলেন, ‘আমি ২০ জানুয়ারি আইসিসি মিডিয়া বিভাগ থেকে একটি অনুমোদনের ই-মেইল পেয়েছিলাম, যার মধ্যে ভিসা সাপোর্ট লেটারও (আমন্ত্রণপত্র) ছিল। কিন্তু আজ আমি আরেকটি ই-মেইল পেয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, আমার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বকাপের অংশ নিলেও এর আগে থেকেই বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো কাভার করে আসছেন। বর্ষীয়ান সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুসহ চারজন বাংলাদেশি রিপোর্টার (প্রতিবেদক) ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপও কাভার করেছিলেন।
‘এমনকি আইসিসির সহযোগী সদস্য কোনো দল যদি বিশ্বকাপে না-ও খেলে, তবুও সেই দেশের সাংবাদিকরা অ্যাক্রিডিটেশন পেতে পারেন। সবাইকে কেন প্রত্যাখ্যান করা হলো, সেটার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি বিস্মিত এবং এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,’ বলেন জাগো নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি আরিফুর।
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি পদে থাকা আরিফুর আরও জানান, পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের অন্য দুটি সংগঠন— বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটির (বিএসজেসি) সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করায় আইসিসি অসন্তুষ্ট এবং তারা বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সৌজন্য ও পেশাদারিত্বের সীমা লঙ্ঘন করে। আমি মনে করি, এই ঘটনা আইসিসির একটি অন্ধকার দিক উন্মোচিত করেছে।’
আরিফুর যোগ করেন, ‘সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে আমি অন্য দুটি ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলব। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিসিবির মাধ্যমে আইসিসির কাছে একটি কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো উচিত এবং ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। যেহেতু শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক, তারা আমাদের সেখানে কাভার করার সুযোগ দিতে পারত।’
এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে আইসিসির মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া আসেনি।
