আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অবশ্যই আছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই আছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলেই তো আপনারা (প্রার্থীরা) অভিযোগ করতে পারছেন, প্রচার-প্রচারণা করতে পারছেন। যদি না থাকতো, এটা কি হতো?’
গতকাল রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির কী আলোচনা হয়েছে, ‘জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ব্রিফ করেছি। সেখানে মিশন হেডস ছিলেন ৪১ জন। ইউএন এজেন্সিগুলো থেকে ছিলেন ১২ জন। সরকারি কর্মকর্তারাও ছিলেন।’
কূটনীতিকরা মূলত দুটি বিষয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কৌতূহল ছিল মূলত— সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট ও কমান্ড স্ট্রাকচার। সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট সম্পর্কে আমরা নির্দিষ্ট করে বলেছি, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সংখ্যাগত হিসাব এবং কতজন কোথায় থাকবেন, এসব সম্পর্কে বলা হয়েছে।’
ইসি সচিব জানান, ‘কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা পুলিশের কাছে থাকবে।’
ভোটের ফল কতক্ষণে হতে পারে, কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছিলেন— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের রেজাল্ট সময়মতোই হবে। তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা বা চার ঘণ্টার মধ্যে, ডিপেন্ডিং অন দ্য নম্বর অব ভোট কাস্টেড। কিন্তু পোস্টাল ভোটের যে কেন্দ্রগুলো, সেখানে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে। কারণ, ব্যালট পেপার দুটি—একটি প্রবাসীদের জন্য এবং আরেকটি অভ্যন্তরীণ। দেশের অভ্যন্তরের ব্যালট পেপারের ভিন্নতা আছে। রিটার্নিং অফিসারকে ১১৯টি প্রতীক চোখ দিয়ে স্ক্যান করতে হবে।’
কূটনীতিকদের দ্বিতীয় কৌতূহল, কমান্ড স্ট্রাকচার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কূটনৈতিকদের বলেছেন, যার যার বাহিনীর কাছে তার কমান্ড স্ট্রাকচারটা থাকবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে কো-অর্ডিনেশন থাকবে।’
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে ইসি নির্ভার কি না— জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসি মোটেই নির্ভার না…একটা ল্যাক অব কমিউনিকেশন থাকতে পারে। সেটা হলো আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা আর ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ করার মধ্যে সময়ের একটা পার্থক্য আছে।’
আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩০০ সংসদীয় আসনের ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দেন, উইথ অ্যা কপি টু আস। আমরা এটাকে ফলোআপ করব।…আপনাদের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, আমরা কি কোনো কাজ করছি না, আসলে এটা দৃশ্যমান হয় না।’
বিদেশে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ইসি কীভাবে ব্যবস্থা নেবে— সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘বিদেশে যদি কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেটা ব্যক্তিপর্যায়ের বিষয়।’
গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর ভোট গণনা ‘কনকারেন্টলি’ হবে উল্লেখ করে ইসি সচিব আরও বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যত দ্রুত আমরা এটা করতে পারি।’
ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট পেপার আজ থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরে তিন ক্যাটাগরির ভোটার— সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিযোজিত কর্মকর্তা এবং আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটারদের পোস্টার ব্যালট আজ থেকে ডিস্ট্রিবিউশন শুরু হয়েছে।’
প্রবাসীরা দেশে এসে পোস্টাল ব্যালট পোস্ট করলে তা গণনায় যুক্ত হবে না বলেন জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘কারণ প্রবাসী জিও লোকেশন ট্র্যাক করার পরই আসতে হবে। আমাদের মেইল প্রসেসিং সেন্টার বিমানবন্দর এবং তেজগাঁওয়ের (ডাক পোস্ট) মাধ্যমে ফিল্টারড হয়ে আসতে হবে।’
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আপনারা ভোট দেওয়া শুরু করুন, দিতে থাকুন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি করুন।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘তবে এই দুই ভোটের ফল একসঙ্গে দেওয়া হবে।’
মোবাইল ফাইন্যান্সিং সিস্টেম নিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে ইসির একটা মিটিং হয়েছে। কিছু রেস্ট্রিকশন তারা (বিএসইইউ) প্রস্তাব করবে। তারা বিষয়টি দেখছে।’
