-3 C
New York

আর্সেনালকে হারিয়ে ক্যারিক বললেন, ‘পা মাটিতেই আছে’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়ার পর মাইকেল ক্যারিককে ঘিরে যে সতর্ক কণ্ঠগুলো শুরু থেকেই ২০১৮–১৯ মৌসুমের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছিল, তাদের সেই যুক্তি এখন চোখের সামনেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

সাত মৌসুম আগে ওলে গুনার সুলশার অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে এসে টানা আট ম্যাচ জিতেছিলেন, পরের নয় ম্যাচের ছয়টিতেও জয় পান। সেই ধারা শেষ পর্যন্ত পিএসজির বিপক্ষে অবিশ্বাস্য চ্যাম্পিয়নস লিগ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে চূড়ায় পৌঁছে তাকে স্থায়ী চাকরি এনে দেয়। যদিও ২০২১ সালে ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠলেও সেই শুরুর ঝলক পরে আর ধরে রাখা যায়নি।

ফলাফল অনেক সময় যুক্তিসংগত বিশ্লেষণকে ছাপিয়ে যায়, তবে ক্যারিকের কথাবার্তায় এখনো তেমন কোনো আত্মতৃপ্তির ছাপ নেই। তিনি যখন বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘রাইড’ করার কথা বলেন, তখন মূলত খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা, ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের মতো দুই জায়ান্টকে হারানোর পর তৈরি হওয়া আবেগ ও আত্মবিশ্বাসের কথাই বোঝান।

আর্সেনালের বিপক্ষে ৮৭ মিনিটে মাতেউস কুনহার শট যখন ডেভিড রায়ার জালের কোণে ঢুকছিল, তখন টাচলাইনে ক্যারিকের উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছিল। তবে সেটাই স্বাভাবিক, তার তিন মিনিট আগেই তো প্রায় নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে সমতা হজম করেছিল ইউনাইটেড।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এই আবেগ, শক্তি আর আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগাতে হবে। তবে একই সঙ্গে বিনয়ী থাকতে হবে এবং বুঝতে হবে, আমরা এই দুই ফল কীভাবে অর্জন করেছি। অনেক দূর আগাম তাকালে বিপদে পড়তে হয়।”

স্কাই স্পোর্টসের সাক্ষাৎকারে তাকে ঘুরিয়ে স্থায়ী কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করাতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনায় যেতে চাননি ক্যারিক। তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট বার্তা, “আমি এখানে একটি কাজ করতে এসেছি। দুই সপ্তাহও হয়নি দায়িত্ব নিয়েছি। তখনই বলেছিলাম, বড় ছবির কথা মাথায় রেখে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা ভেসে যাচ্ছি না। দুটি বড় ফল এসেছে ঠিকই, কিন্তু পা মাটিতেই থাকবে। আমি উপভোগ করছি এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

দায়িত্ব নেওয়ার পরই আগের কোচ রুবেন আমোরিমের রেখে যাওয়া কয়েকটি বড় সমস্যায় হাত দিয়েছেন ক্যারিক। তিন ডিফেন্ডারের ৩-৪-৩ ছক থেকে সরে এসে চার ডিফেন্ডারের ব্যবস্থায় ফেরা, কোবি মাইনুকে দলে ফেরানো, অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ঠেলে দেওয়া, এসব সিদ্ধান্তে দ্রুতই প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া কিছু সাহসী সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি। বাঁ দিকের আক্রমণে মাতেউস কুনহার বদলে প্যাট্রিক ডরগুকে বেছে নেওয়াটা প্রমাণিত হয়েছে দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক। ক্যারিকের অধীনে দুই ম্যাচেই ডরগু গোল করেছেন। আর কুনহা সিটির বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের অ্যাসিস্টের পর আর্সেনালের বিপক্ষে যোগ করেছেন ম্যাচজয়ী গোল।

ক্যারিক বলেন, “কুনহা আমাদের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। সে দুই ম্যাচেই শুরু করেনি, শুরু না করতে পেরে হতাশও ছিল। কিন্তু সেটাকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। বড় দুই মুহূর্তে বিশাল প্রভাব রেখেছে। বলটা যখন তার পা থেকে বের হলো, তখনই মনে হয়েছিল সে গোল করবে। সে পুরোপুরি প্রাপ্য।”

ম্যাচ অব দ্য ডে-কে কুনহা বলেন, ক্যারিকের ইউনাইটেডে এখন ‘ভিন্ন এক এনার্জি’।

“তিনি এখানে বহু বছর খেলেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনুভূতিটা তিনি জানেন। আমাদের বলেছেন, এই ক্লাবের হয়ে খেলা কত বড় ব্যাপার। বলেছেন, সবাই আমাদের বিপক্ষে, তাই মাঠে নেমে সবটুকু উজাড় করে দিতে হবে।”

নিজের প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করতে চান না ক্যারিক। সেটা অন্যদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের চোখ এড়ায়নি পরিবর্তন। স্কাই স্পোর্টসে মিকা রিচার্ডস বলেন, “সে কী দারুণ কাজটাই না করছে! দলের সামগ্রিক মানসিকতা আলাদা দেখাচ্ছে। বড় প্রশ্ন ছিল, সিটির বিপক্ষে জয়ের পর কি তারা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারবে? তারা সেটা করে দেখিয়েছে।”

তিন সপ্তাহ আগে বার্বাডোজে ওয়েন রুনির সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ক্যারিক। শুক্রবার দুজনকে দেখা যায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাশাপাশি বসে, কাই রুনির নেতৃত্বে ইউনাইটেডের অনূর্ধ্ব-১৮ দল এফএ ইয়ুথ কাপে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচ দেখতে।

ক্যারিকের অনুভূতি যদি কেউ ভালো বোঝেন, তিনি রুনি। তার কথায়, “সিটি আর আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দুই জয়, গত সপ্তাহে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এমন শুরু সে কল্পনাও করেনি। তার আসার পর সবকিছুতেই সম্পূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।”

 

Related Articles

Latest Articles