জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা ও প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিবিসি রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘স্পষ্ট বিশ্বাস’ রয়েছে যে বহুপক্ষীয় সমাধান আর প্রাসঙ্গিক নয়।
গুতেরেসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই আন্তর্জাতিক আইন না মেনে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগে গুরুত্ব দেয়। তারা এসব ব্যাপারে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময়ই আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা ও প্রভাব খাটায়।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও সে দেশের প্রেসিডেন্টকে আটক করার কয়েক সপ্তাহ পর গুতেরেসের এই মন্তব্য করলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা—বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতারর ধারণা গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত আন্তর্জাতিক আইন মানতে সদস্য দেশগুলোকে বাধ্য করাতে সংস্থাটির অপারগতাও স্বীকার করেছেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিষদ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন গুতেরেস। তার মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই পরিষদ আর বিশ্বের বাস্তব প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি এখন অকার্যকর। পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতাকে তিনি ব্যক্তিগত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব আটকে দিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই ভেটো ব্যবহার করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের গঠন পরিবর্তন এবং ভেটো ক্ষমতা সীমিত না করলে এই অচলাবস্থা কাটবে না।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করে দেওয়ায় সেখানে জাতিসংঘের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষ্য, যখনই অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তখনই জাতিসংঘ মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে প্রস্তুত ছিল।
২০১৭ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া গুতেরেস এ বছরের শেষ দিকে পদ ছাড়বেন। বিদায়ের আগে সংস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৪৫ সালের কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’
