যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী-পরিবেশ রক্ষার নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হবে না এবং কেন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
এর আগে, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ৩ জুন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে পুরানলাউর, চালিয়ারঘাট, লামাশ্রম, পূর্বদইল এবং ঘাগড়া মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাড় ও নদীতল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টের রায় অমান্যের অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত বছর মামলা দায়ের করে।
মামলায় বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। একইসঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ছাড়াই জেলা প্রশাসন যাদুকাটা নদীতে দুটি বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেয়, যা নদীর আরও ক্ষতি করে।
এরপর ২০২৫ সালে ওই ইজারা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিনে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, নির্বিচারে বালু ও পাথর উত্তোলনে যাদুকাটা নদী বিপজ্জনকভাবে বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই অবিলম্বে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে অন্তত ২০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইজারা বাতিল করে যাদুকাটা নদী রক্ষায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ ১৩ সরকারি কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেয় বেলা।
আজ আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না ও রুমানা শারমিন।
