ক্লাব ফুটবলে কোচ হিসেবে হান্সি ফ্লিক যেন এক অপরাজেয় নাম! এখন পর্যন্ত ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কোনো ফাইনাল হারেননি এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সেলোনা— আটটি ফাইনালের প্রতিটিতেই শেষ হাসি হাসলেন তিনি। তবে এমন অবিশ্বাস্য অর্জনের কৃতিত্ব নিজের পকেটে না পুরে চিরাচরিত বিনয়ে তা শিষ্যদের উৎসর্গ করলেন ফ্লিক। তার মতে, খেলোয়াড়দের নিবেদনই এই শতভাগ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সৌদি আরবের জেদ্দায় রোববার রাতে ক্যারিয়ারের অষ্টম ফাইনাল জয়ের মধুর স্বাদ পেয়েছেন ফ্লিক। রোমাঞ্চকর ও উত্তাপ ছড়ানো লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে তার দল বার্সা।
ফ্লিকের এই রাজকীয় যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০১৯-২০ মৌসুমে, স্বদেশি ক্লাব বায়ার্নের ডাগআউটে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে বায়ার লেভারকুসেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জার্মান কাপ জেতেন তিনি। সেদিন জোড়া গোল করে নজর কেড়েছিলেন বর্তমানে বার্সেলোনায় খেলা পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ত লেভানদোভস্কি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফ্লিককে। অপ্রতিরোধ্য থেকে একে একে তার মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরও সাতটি সাফল্যের পালক।
বায়ার্নের হয়ে ২০২০ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, জার্মান সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন ফ্লিক। এরপর বার্সার দায়িত্ব নিয়ে গত বছর জেতেন কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। আর সবশেষ আরেকটি স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের আট ফাইনালের আটটিতেই অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত মাইলফলক স্পর্শ করলেন ফ্লিক।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবেই উঠে আসে এই প্রসঙ্গ— ফ্লিকের শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার রহস্য কী? জবাবে তিনি তুলে ধরেন শিষ্যদের পরিশ্রম ও হার না মানা মানসিকতাকে, ‘গোপন রহস্যটা কী? প্রতিপক্ষের চেয়ে একটি গোল বেশি করা। এটা আমাকে নিয়ে কিছু নয়, এটা খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব। এটা শতভাগ মানসিকতা, আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার। আমি কখনও অতীত নিয়ে ভাবি না। আমার কাছে, আজকের ফাইনালটাই গুরুত্বপূর্ণ, জয় সব সময়ই বিশেষ।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই সুপার কাপটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং রিয়ালের বিপক্ষে জয়টা এটাকে আরও মহিমান্বিত করেছে। জয় পাওয়াটা সবসময়ই আনন্দের, আর ভালো খেলে জিতলে তৃপ্তিটা অনেক বেড়ে যায়। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, জেতার পথে মাঠে আমাদের নিজস্ব খেলার ধরন প্রতিষ্ঠিত করা। দলের প্রত্যেকের পারফরম্যান্সে আমি সত্যিই গর্বিত।’
গত তিন মৌসুমে সুপার কাপ জেতা দলই পরবর্তীতে লা লিগার ট্রফির স্বাদ পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান আরও উজ্জীবিত করতে পারে শিরোপাধারী বার্সেলোনাকে। ১৯ ম্যাচ শেষে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে তারা। সমান ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল দুইয়ে অবস্থান করছে।
