নতুন জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুললে ১৫ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ পাওয়া যেত এতকাল। তবে নতুন ইউজারদের জন্য এই সুবিধা কমতে চলেছে।
ইয়াহু-হটমেইলের যুগে নতুন ইমেইল সেবা হিসেবে বাজারে আসে গুগলের ‘জিমেইল’। সেই মেগাবাইটের যুগে শুরু থেকেই ১ গিগাবাইট (জিবি) স্টোরেজ দিয়ে সাড়া ফেলে দেয় জিমেইল।
সে সময় নতুন করে কেউ জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন না—প্রত্যেক ইউজারের কাছে সীমিত সংখ্যক ‘ইনভাইট’ থাকতো, যার মাধ্যমে নতুন ইউজাররা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন। বহুল আরাধ্য ইনভাইটের জন্য অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় থেকেছেন সে আমলে।
তবে সে অনেক আগের কথা। ২০০৪ সালে পথ চলার শুরুর পর নিয়মিত বাড়তে থাকে স্টোরেজের পরিমাণ।
২০১৩ সাল থেকে গুগল অ্যাকাউন্ট মানেই ১৫ গিগাবাইট স্টোরেজ—এমনটাই জেনে এসেছেন সবাই।
গুগলের ‘শেয়ার্ড ক্লাউড স্টোরেজ’ গুগল ড্রাইভ, জিমেইল ও অন্যান্য সেবার জন্য ব্যবহার হয়।
তবে এ ধারার পরিবর্তন আসছে।
পরীক্ষামূলকভাবে, কয়েকজন নতুন ইউজারের স্টোরেজের পরিমাণ ১৫ জিবি থেকে কমিয়ে ৫ জিবি করা হয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড অথোরিটি নামের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, কয়েকজন ইউজার নতুন জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে মাত্র ৫ জিবি স্টোরেজ পেয়েছেন।
গুগল অ্যান্ড্রয়েড অথরিটিকে নিশ্চিত করে, তারা বিষয়টি পরখ করে দেখছে। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে নতুন স্টোরেজ নীতি চালু করবে গুগল।
কোন কোন দেশে এই ‘পরীক্ষা’ চলছে, তা নিশ্চিত করেনি গুগল।
ইউজাররা জানান, মূলত আফ্রিকাতেই চলছে এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা।
গুগল জানিয়েছে, উচ্চ মানের স্টোরেজ সেবা অব্যাহত রাখতেই তারা এই উদ্যোগ নিতে চলেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই উদ্যোগে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আরও উন্নত ডেটা রিকোভারি প্রক্রিয়া চালু করা সহজ হবে।
যারা ইতোমধ্যে ১৫ জিবি স্টোরেজ উপভোগ করছেন, তারা এই ‘পরীক্ষায়’ প্রভাবিত হবেন না।
গুগলের সাপোর্ট পেজে নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আগে বলা হোত, জিমেইলে ১৫ জিবি স্টোরেজ দেওয়া হবে। এখন তা বদলে লেখা হচ্ছে, ‘সর্বোচ্চ ১৫ জিবি’।
এই পরীক্ষা বা, পরীক্ষার পর নেওয়া সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্টোরেজ কমানোর কোনো সময়সীমা জানায়নি গুগল।
এমন কি, নতুন ইউজারদের স্টোরেজ স্থায়ীভাবে কমছে কি না, সেটাও নিশ্চিত করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
