27.8 C
Dhaka

ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজের ২০০ নাবিককে শ্রীলঙ্কার আশ্রয়

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে একটি যুদ্ধ জাহাজ ডুবে যায়। নিহত হন অন্তত ৮৪ নাবিক। 

এই পরিস্থিতিতে একই অঞ্চলে অবস্থানরত অপর এক ইরানি জাহাজ কলম্বোর সহায়তা চায়। ওই জাহাজের ২০০ নাবিককে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে অনুঢ়া কুমার দিশানায়েকের দেশ। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

শুধু আশ্রয় দিয়েই থামেনি শ্রীলঙ্কা, ওয়াশিংটন-তেল আবিবের আগ্রাসনের প্রতি নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। 

বৃহস্পতির আইআরআইএস বুশেহর নামের জাহাজটির ২০০ ক্রুকে শ্রীলঙ্কার তীরে নিয়ে আসা হয়েছে

রাজধানী কলম্বোর কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 

জাহাজটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে আছে। 

বুধবার মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে আইআরআইএস ডেনা নামের ইরানি জাহাজটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ডুবে যায়। এরপর বুশেহর-এর ক্রুরা ‘ইঞ্জিনের কারিগরি সমস্যার’ কথা উল্লেখ করে শ্রীলঙ্কার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। 

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘আমাদের মতে, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।’

 

‘জনমানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এবং মানবতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা এসব পদক্ষেপ নিয়েছি’, যোগ করেন দিশানায়েকে। 

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।  

কয়েক ঘণ্টা আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার নেতা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে একটি দেশের জন্য বিপদগ্রস্ত নাবিকদের আশ্রয় দেওয়া ‘সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও মানবিক কাজ।’

‘আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নীতি বজায় রাখি। আমরা নিশ্চিত করি, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের জীবন বাঁচানো আমাদের সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হিসেবে যেন টিকে থাকে’, যোগ করেন তিনি। 

চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। 

 

সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। অপরদিকে, চা রপ্তানির বাজার হিসেবে ইরান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি পণ্য চা। 

উদ্ধারকৃত ৩২ ক্রুকে বন্দরনগরী গলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, আইআরআইএস বুশেহর জাহাজের ২০৮ ক্রূর মধ্যে ২০৪ জনকে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছেন। 

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘জাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে। এটাকে ত্রিনকোমালিতে নিয়ে যাওয়া হবে।’

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পূর্ব প্রান্তের একটি বন্দর ত্রিনকোনমালি। রাজধানী কলম্বো থেকে এটি বেশ খানিকটাই দূরে। 

 

কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার সেনাদের সহায়তা করতে চার ইরানি জাহাজে থেকে গেছেন। 

এর আগে ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়ে আইআরআইএস ডেনার ওপর হামলার দায় নেয়। এই হামলার জেরে ৮৪ জন ক্রু নিহত ও ৬৪ জন নিখোঁজ হন। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলা শুরুর পর এটাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানার বাইরে কোনো সামরিক হামলার ঘটনা। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই কোনো মার্কিন সাবমেরিনের প্রথম টর্পেডো হামলার ঘটনা।

Related Articles

Latest Articles