-2 C
New York

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ রোববার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, আনিসুল হক, তৌফিকা করিম, মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন ও মো. কামরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে  চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। 

তিনি আরও বলেন, চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।

সিআইডির মুখপাত্র বলেন, অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি তৌফিকা করিমের ‘ল’ ফার্ম সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি সম্পাদন করেন। এর মাধ্যমে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিতভাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন কামরুজ্জামান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়া তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

জসীম উদ্দিন আরও বলেন, অন্যদিকে আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও রাশেদুল কাওসারকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। একইসঙ্গে তিনি লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ওই এনজিওতে তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান, রাশেদুল কাওসারকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদার অর্থ আদায় করা হতো। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ওই এনজিওর মাধ্যমে সর্বমোট ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

তিনি বলেন, অনুসন্ধান চলাকালে তৌফিকা করিমের নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ২৬টি হিসাবে জমা করা ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা মহানগর ঢাকা স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ফ্রিজ করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Articles