-3.4 C
New York

দিপু হত্যা: নেতৃত্ব দেওয়া আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া গ্রেপ্তার মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেনের আদালতে এ জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইয়াছিন ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ী কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। 

গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে বলেন, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যান্যদের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতও নেতৃত্ব দেন। হত্যা সংগঠিত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন পলাতক অবস্থায় সারুলিয়া এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি সুফফা নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কারখানার গেটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিনের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দিপু চন্দ্র দাস (২৭) জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপুকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। 

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।

 

Related Articles

Latest Articles