-0.8 C
New York

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা 

জালিয়াতির মাধ্যমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। 

আজ বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন দ্যা ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পিপি জানান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে এবং শুনানি শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা একে অপরের সাথে যোগসাজশে ইউসিবির চট্টগ্রাম বন্দর শাখা থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করে। 

ঋণ পেতে ভিশন ট্রেডিংসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল ট্রেড লাইসেন্স এবং মিথ্যা ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ অস্তিত্ব বা প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না।

পরে ঋণের টাকা ভুয়া ব্যক্তি এবং অস্তিত্বহীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে বিদেশে পাচার ও আত্মসাত করে। 
দুদকের দাবি, হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ও পরে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসামীরা। 

দুদক জানায়, ওই সময় ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রুখমিলা জামান। তবে সাইফুজ্জামানই ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার করতেন।

দুদকের তদন্তে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলা ও অসৎ উদ্দেশ্যেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী পলাতক রয়েছেন। 

এ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন— ভিশন ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিটের প্রোটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, ইউসিবির সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরাম উল্লাহ, ইউসিবির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ চৌধুরী, ইউসিবির সাবেক ক্রেডিট অফিসার জিয়াউল করিম খান, ইউসিবির সাবেক ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মীর মেসবাহ উদ্দিন হোসেন, মডেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিটের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিসবাহুল আলম, ইন্টেরিয়র ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিটের এজিএম মো. আব্দুর আজিজ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিটের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল আহমেদ বাবুল।

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করে দুদক।

Related Articles

Latest Articles