-2.4 C
New York

ইসরায়েলের তুলনায় নিম্নমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে সৌদি আরব: রয়টার্স

প্রথমে সংবাদ এলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাবে সৌদি আরব। সেসময় অনেকে ভেবেছিলেন—মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এবার ইসরায়েলের একাধিপত্য অবসান হবে। অনেকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দূতালিতে মুগ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু, দিন না গড়াতেই জানা গেল—যদি বিক্রি করা হয় তবে ইসরায়েলের তুলনায় নিম্নমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়া হবে সৌদি আরবকে।

গত ১৯ নভেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যেসব এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে যাচ্ছে সেগুলোয় ইসরায়েলকে দেওয়া এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের তুলনায় কম সুবিধা থাকবে।

গত ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজকীয় নৈশভোজ সেরেছিলেন মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেসময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির সম্ভাবনার কথা প্রকাশিত হয়।

বিন সালমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘ বছর পশ্চিমে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাত্য ছিলেন সৌদি আরবের এই ভবিষ্যৎ রাজা।

কিন্তু, টাকার পাহাড়ে চাপা পড়া সেই অভিযোগ থেকে আপাত ‘মুক্তি’ মিললেও তিনি নিজ দেশের জন্য নিয়ে আসলেন এক অবমাননাকর ‘উপহার’। ট্রাম্পের চোখে ‘নির্দোষ’ এই নেতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছেন তা ইসরায়েলকে মোকাবিলায় সক্ষম হবে না।

মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আইনেই এ কথা বলা আছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ ইসরায়েলকে সামরিক দিক থেকে টেক্কা দিতে পারবে না। তাই সৌদি আরব যেসব এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে সেগুলো ইসরায়েলের কাছে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের তুলনায় কম ক্ষমতাসম্পন্ন হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন দিক পরিবর্তের অনুমতি দেওয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়াই ইসরায়েল যুদ্ধবিমানটির অস্ত্রবহন ব্যবস্থা ও রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতাসহ অন্যান্য সুবিধা নিজেদের মতো করে সংযোজন করতে পারে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানায়, এরপরও ইসরায়েলের বিমান বাহিনী সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

মিটশেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ডগলাস বিরকি বলেন, ‘সৌদি আরব এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেলেও এর সঙ্গে সম্পর্কিত অত্যাধুনিক আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র জেএটিএম পাবে বলে মনে হয় না।’ তবে এধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলকে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Related Articles

Latest Articles