গাজীপুরের টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাহেলা খাতুন (৪৮) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বলে দাবি করেছে। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকা থেকে রাহেলা খাতুনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ছায়েদুর রহমানের অধীনে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর শরীরে ডায়াবেটিস (RBS: 18 mmol/L), এন্টারিক ফিভার, ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স, জন্ডিস, রক্তে প্রোটিনের অভাব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, রোগীর শরীরে প্রোটিনের অভাবজনিত কারণে পা ফুলে গিয়েছিল, যা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। এই ঝুঁকি নির্ণয়ে ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর স্বজনরা তা সম্পন্ন করেননি। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর রোগীর ছেলে রায়হান হোসেন ও অন্য স্বজনরা হাসপাতালের আইসিইউ এবং পাঁচ তলার ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান। এ সময় কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ওই রাতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ মাহমুদুল হাসান স্বজনদের সাথে কথা বলতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান এই বিষয়ে জানান, রোগীর মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে। চিকিৎসা আইন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা বা নীতিগত ব্যর্থতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যক্তিগত দায় আরোপ করা যায় না। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই মৃত্যুকে ভুল চিকিৎসা হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে, বিশেষ করে, ১২ বছর আগে হাসপাতালের মূল প্রতিষ্ঠান আইএমএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুবিন খানের স্ত্রীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে (যেখানে অপরাধী ড্রাইভার গ্রেফতার হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটর সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়) এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব অপরাধীকে ধরে ফেলে এবং ২০০ ভরি গহনার মধ্যে ৬৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং গাড়ি উদ্ধার হয়। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর সাথে এই ঘটনা সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর ৩ মাস পর তার মৃত্যু নিয়ে এই ধরনের সংবাদ এবং আইএমএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য ভুয়া, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে হীন স্বার্থ চরিতার্থের গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হয়।
হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনার তদন্ত করছে। পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী তদন্তভার পরিচালনা করছেন। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।
