ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয়ের পথে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সরকারি ফলাফল ও দলীয় হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২৭২টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ২০১টিতে এগিয়ে আছে। এতে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে আছে।
প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এই ফলাফলকে ‘জনগণের অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
গতকাল রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটগণনা ও আসনভিত্তিক বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এই বিজয় নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সকাল ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দলটি ৬২টি আসনে বিজয়ের দাবি করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. খালেদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১, মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮, আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ এবং সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল দেশজুড়ে ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত নতুন সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোটেও অংশ নেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
