বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক এইডেন মার্করামের ৪৪ বলে অপরাজিত ৮৬ রান এবং দুর্দান্ত বোলিংয়ে পেসার মার্কো ইয়ানসেনের ৪০ রানে ৪ উইকেটে সুবাদে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটি।
শনিবার আহমেদাবাদে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে অনায়াসে ৭ উইকেটে জিতেছে প্রোটিয়ারা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে আটকে ফেলতে বড় ভূমিকা রাখেন ইয়ানসেন। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৮৩ রান তুলে পথ সহজ করে ফেলে তারা। শেষ পর্যন্ত ১৭ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে ১৭৮ রান তুলে লক্ষ্যে পৌঁছায় দলটি। তিন ম্যাচ খেলে তৃতীয় জয়ে তাদের অর্জন পূর্ণ ৬ পয়েন্ট।
ম্যাচশেষে মার্করাম বলেন, ‘আমি মনে করি, টসে জেতার বিষয়টি স্বীকার করা স্পষ্টভাবেই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। তবে এ কথা বলার পাশাপাশি, ছেলেদের ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে। বল হাতে নিউজিল্যান্ডকে এই রানে আটকে রাখার জন্য।’
এই গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডই (তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট) পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তানের সামনে গাণিতিকভাবে এখনও সামান্য সুযোগ টিকে রয়েছে।
মার্করাম শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক ঢঙে। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে ছক্কা মেরে মাত্র ১৯ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ৪৪ বলের অপরাজিত ইনিংসে তিনি আটটি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকান।
রান তাড়া করতে নেমে কুইন্টন ডি কক ১৪ বলে ২০ এবং রায়ান রিকেলটন ১১ বলে ২১ রান করে আউট হন। ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত একটি ক্যাচে বিদায় নেন রিকেলটন। তিনে নামা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও ১৭ বলে ২১ রান করে রাচিন রবীন্দ্রর শিকার হন। তবে মার্করাম এক প্রান্ত আগলে রেখে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। ব্যক্তিগত ৬৯ রানের মাথায় তার ফিরতি ক্যাচ ছাড়েন পেসার লোকি ফার্গুসন। শেষমেশ ডেভিড মিলারের সঙ্গে ৩৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ফার্গুসনকে ছক্কা মেরে খেলা শেষ করা মিলার ১৭ বলে অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে।
এর আগে নিউজিল্যান্ড সতর্ক শুরু করলেও ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩১ করে তুলে দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। লুঙ্গি এনগিডির এক ওভারেই তিনি তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। আরেক ওপেনার টিম সাইফার্টও ভালো কিছুর আভাস দিলেও ইয়ানসেনকে ছক্কা মারার পরের বলেই আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
আক্রমণে ফিরে ইয়ানসেন ধরেন জোড়া শিকার। রাচিন ও ফিন অ্যালেনকে দ্রুত বিদায় করে কিউইদের বিপাকে ফেলেন তিনি। এরপর কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে গ্লেন ফিলিপস মাত্র বোল্ড হলে সপ্তম ওভারে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৬৪ রান।
পঞ্চম উইকেটে মিচেল ও মার্ক চ্যাপম্যান মাত্র ৪৪ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের আশা দেখান। চ্যাপম্যান যখন ফিফটির পথে, তখন মার্করাম আবারও ইয়ানসেনকে বোলিংয়ে আনেন। তার স্লোয়ার ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ধরা পড়েন ৪৮ রান করা চ্যাপম্যান। তার ২৬ বলের আগ্রাসী ইনিংসে ছয় দুটি ও চার ছয়টি। এরপর রানের চাকা শ্লথ হয়ে পড়ে। শেষ ছয় ওভারে কেবল ৩৭ রান তুলতে পারে নিউজিল্যান্ড। মিচেল করেন ২৪ বলে ৩২ রান। ১৫ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম।
বেশ খরুচে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু আনা ইয়ানসেন ম্যাচসেরার পুরস্কার পান। কিউই ব্যাটার মিচেল তার প্রশংসা করে বলেন, ‘সে আজ অসাধারণ বল করেছে। প্রোটিয়া বোলাররা এই উইকেটে সম্ভবত আগেও বেশ কয়েকবার খেলেছে। তাই তারা জানত এখানে ঠিক কোন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হয়।’
