-0.9 C
New York

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে পরস্পরবিরোধী, অযৌক্তিক ও অপরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টিআইবি সতর্ক করে বলেছে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করার বদলে এই নিষেধাজ্ঞা ভোটার অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যদি উদ্দেশ্য হয় মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানো, তাহলে লক্ষ্যভিত্তিক ও যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু ভোটারদের মৌলিক প্রয়োজন—যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা উপেক্ষা করে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মূলত মাথাব্যথার চিকিৎসায় মাথা কেটে ফেলার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরং এতে তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন, স্বচ্ছতা হ্রাস এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনআস্থার সংকটের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং অন্যান্য অংশীজনের জন্য বাস্তব ও কার্যকর বাধা সৃষ্টি করবে।

তার ভাষ্য, ‘সারা দেশে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে খবর, ছবি ও ভিডিও ধারণ ও প্রচারের জন্য মূলত মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করেন। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ প্রায়ই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সামনে এসেছে।’

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্যান্য অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, এমনকি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

Related Articles

Latest Articles