1 C
New York

জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের দুঃসাহস কেউ দেখাবেন না: শফিকুর রহমান

একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘সেই হতাশা থেকে তারা এখন চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে। গুন্ডাদের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র অন্যায়ভাবে দখল করে মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।’

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তারা এখনো জেগে আছে। তাদের সমস্ত অপকর্ম আমরা প্রতিহত করে দেবো। জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন—এই দুঃসাহস দেখাবেন না। এই দুঃস্বপ্নে ভুগবেন না।’

ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ঢাকা-১১ আসনে এই নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী।

জনসভায় এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করার তাগিদ দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কোনো জালিয়াত, ভোটচোর, অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে না পারে, তা রুখে দিতে হবে। এখন থেকে পাহারাদারি শুরু করতে হবে।’

একটা পক্ষ দল, ব্যক্তি, পরিবারের বিজয়ের জন্য পাগল হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। আরও বলেন, ‘জনগণ তাদেরকে অতীতে দেখেছে। আর এখনো তাদের লোভ দেখছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ অবশ্যই তাদেরকে সমর্থন করবে না। তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবে। যারা জনগণের পক্ষে আছে, জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে আছে, জনগণ তাদেরকেই বেছে নেবে। এর আলামত ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

জামায়াত আমিরের ভাষ্য, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ১১ দল এবার একত্র হয়েছে। এই এক হওয়া চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং সব ধরনের অপরাধজগতের যারা কারিগর, তাদের বিরুদ্ধে। 

জনসভায় ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, জুলাইয়ে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখনো কিন্তু ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যাতে অপরাধ গোপন করা যায়, যাতে খুনকে বৈধতা দেওয়া যায়। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, কার ইশারায় কেন সেই একই অন্ধকার গলিপথে নির্বাচন কমিশন হাঁটার চেষ্টা করছে?’

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকারের কিছু আমলা, সচিব, কিছু অসৎ লোক এখনো দলবাজি করছেন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। প্রার্থী জিতবে বা পরাজিত হবে, সেটা নির্ধারিত হবে জনগণের ভোটে। আপনাকে কে এই দায়িত্ব দিয়েছে? মনে রাখবেন ক্ষমা বারবার পাবেন না। অপরাধ করে অতীতে ক্ষমা পেয়েছেন, আগামীতে সেই ক্ষমা করা হবে না।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যদি আবার ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ার কেউ দুঃসাহস করেন, জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদে রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও রুখে দেওয়া হবে।’

জনসভায় নির্বাচনে জয়ী হলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
 

Related Articles

Latest Articles