1 C
New York

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে: তারেক রহমান

নকল সিল, বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতিসহ নির্বাচন নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

আজ সোমবার সকালে ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন সম্পর্কে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকার পাতায় আমরা সেই খবর দেখেছি। বিভিন্নভাবে তাদের লোকজন মানুষকে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা-বোনদেরকে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বায়বীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটি মহল ও তাদের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে। বিএনপি জনগণের সামনে সেই প্রতিশ্রুতি করতে চায় যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা গিয়ে মা-বোনদেরকে বিভ্রান্ত করে, তাদের বিকাশ নম্বর চায়, তাদের এনআইডি নম্বর চায়—এই সকল গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়, আত্মত্যাগের বিনিময় যেই ভোটের অধিকারকে আজকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে। সেই অধিকার আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আটকে যাবে।’

সবাই সতর্ক থাকলে বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই নির্বাচনী জনসভায় আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে যে, যেকোনো মূল্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করব। আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।’

দেশ গঠনে বিএনপিরই কেবল পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা আছে

পরে দুপুর ১২টায় রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সেখানে তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের একটি পরিকল্পনা আছে দেশ গঠন করার। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যাদের সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

এই আসনে নিজের জন্য ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বহু মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন হাজারো মানুষ। তাদের বলিদানের বিনিময়ে আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছি। আগামী ১২ তারিখে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছি।’

ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকায় নিজের এবং দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সাল থেকে আমি এই এলাকাতেই বেড়ে উঠেছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই এলাকাতেই জীবন কাটিয়েছেন এবং বিদায় নিয়েছেন। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।’

নারীদের উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের, বিশেষ করে প্রান্তিক ও গৃহিণীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্র তাদের নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা দেবে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তার জন্য ‘কৃষিকার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, তরুণদের কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কাউকে ভিটেমাটি বিক্রি করতে না হয়।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন।’ 

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

ঢাকা-১৭ আসনের যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘২০ কোটি মানুষের এই দেশকে পুনর্গঠন করাই এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ বছরে মেগা প্রজেক্টের নামে দেশের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনামলে খালেদা জিয়াকে দেশ ত্যাগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, এই বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। মৃত্যু জেনেও তিনি এ দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি।’

জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণই বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস। অতীতে জনগণ যখনই সুযোগ দিয়েছে, বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল, খালেদা জিয়ার সময় বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগারে পরিণত হয়েছিল।’

Related Articles

Latest Articles