0.6 C
New York

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে রেকর্ড গড়ে জিতল নিউজিল্যান্ড

গুলবদিন নাইবের ঝড়ো ইনিংস ও বাকিদের ছোট ছোট অবদানে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেল আফগানিস্তান। তবে তা যথেষ্ট হলো না টিম সেইফার্ট, গ্লেন ফিলিপসসহ কয়েকজন ব্যাটে হাতে জ্বলে ওঠায়। শুরুর চাপ সামলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে অসাধারণ জয় তুলে নিল নিউজিল্যান্ড।

রোববার চেন্নাইয়ে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ১৩ বল বাকি থাকতে অনায়াসে ৫ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে কিউইরা। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানরা ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলার পর ১৭.৫ ওভারে লক্ষ্য স্পর্শ করে মিচেল স্যান্টনারের দল।

গত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৪ রানের বড় জয় পেয়েছিল আফগানিস্তান। তবে এবারের ছবিটা ঠিক উল্টো। যে বোলিং বিভাগ আফগানদের প্রধান শক্তির জায়গা, এই ম্যাচে তাদের ব্যর্থতাতেই হারতে হয়েছে রশিদ খানদের।

আফগানিস্তানের ইনিংসের শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী খুব একটা গতিশীল ছিল না। রহমানউল্লাহ গুরবাজ দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও ইব্রাহিম জাদরান উইকেটে থিতু হতে সময় নিচ্ছিলেন। ফলে প্রথম ৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে ওঠে মাত্র ৩৫ রান। ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসেই জোড়া ধাক্কা দেন লোকি ফার্গুসন। ইব্রাহিমকে (১০) ক্যাচ বানানোর পর গুরবাজকেও (২৭) সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি।

তৃতীয় উইকেটে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন গুলবদিন ও সেদিকউল্লাহ অটল। এই জুটি ৫১ বলে ৭৯ রান যোগ করে আফগানদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। জুটিতে বেশি আগ্রাসী ছিলেন গুলবাদিন, মাত্র ২৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে অটলকে (২৯) ফেরান জ্যাকব ডাফি। এরপর দারবিশ রাসুলি ১৩ বলে ২০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে আউট হন।

অষ্টাদশ ওভারে পার্ট-টাইম স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রকে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকালেও পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন গুলবদিন। তার আগে ৩৫ বলে ৬৫ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন তিনি। সেখানে তিনটি চারের পাশাপাশি চারটি ছক্কার মার ছিল।

শেষ দিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৭ বলে ১৪ এবং মোহাম্মদ নবির ৭ বলে ১০ রানের অপরাজিত ইনিংসে লড়াকু পুঁজি পায় আফগানিস্তান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে পেসার ফার্গুসন ২ উইকেট নিলেও খরুচে বোলিংয়ে চার ওভারে দেন ৪০ রান।

ফজলহক ফারুকির প্রথম ওভারে সেইফার্ট ঝড়ো শুরু করলেও পরের ওভারে মুজিব উর রহমান নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেন। ফিন অ্যালেন (১) ও রাচিন রবীন্দ্রকে (০) দ্রুত বিদায় করে আফগানদের উল্লাসে মাতান তিনি। এমনকি মুজিবের হ্যাটট্রিক বলটিতে ফিলিপস ক্যাচ তুললেও শর্ট লেগে ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান।

এরপর সেইফার্ট ও ফিলিপস পাল্টা আক্রমণে চাপ সরিয়ে দেন। তখন থেকেই নিয়মিত আসতে থাকে বাউন্ডারি। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি মাত্র ৪৭ বলে ৭৪ রান যোগ করে। দশম ওভারে রশিদ ফিলিপসকে (২৫ বলে ৪২) আউট করে ব্রেকথ্রু দিলেও পরের ওভারে নিজের বলে সেইফার্টের ক্যাচ মিস করে সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৪৮ রানে জীবন পেয়ে সেইফার্ট আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। সমীকরণ সহজ করে আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৪২ বলে ৬৫ রানের ম্যাচসেরা ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা।

এরপর মার্ক চ্যাপম্যানকে (১৭ বলে ২৮) বিদায় করা গেলেও নিউজিল্যান্ডের সহজ জয় আটকাতে পারেনি আফগানিস্তান। ছন্দে থাকা ড্যারিল মিচেলের ১৪ বলে অপরাজিত ২৫ ও অধিনায়ক স্যান্টনারের ৮ বলে অপরাজিত ১৭ রানের ক্যামিওতে অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা।

Related Articles

Latest Articles