ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা এ তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাসব্যাপী এই মেলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বাস্তব কারণে এ বছর ১ তারিখের পরিবর্তে মেলা শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি।
তিনি জানান, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় এ বছর স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
ড. সেলিম রেজা বলেন, মেলার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মেলার জন্য সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দিয়েছে। স্টল নির্মাণকাজ চলছে এবং আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্টল বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর মেলায় অংশ নেওয়া ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন করে আবেদন করা ৫৩টির মধ্যে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সব প্রতিষ্ঠান ও ২৪টি নতুন প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তুতির প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর কিছু প্রকাশক সরকারকে ঈদের পর মেলা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তবে এপ্রিল মাসে সাধারণত প্রচণ্ড গরম, ধুলাবালি বৃদ্ধি এবং কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির ঝুঁকি থাকায় সে সময়ে মাসব্যাপী মেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশকদের মেলায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, রমজান মাসে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলাপ্রাঙ্গণে তারাবির নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইফতারের জন্য খাবারের স্টল থাকবে এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। প্রকাশকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের দাবি জানান। এ সময় তারা আরও তিনটি দাবি উত্থাপন করেন।
ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা বলেন, মেলার সময়সূচি ঈদের পর পরিবর্তনের দাবি দেশের অধিকাংশ প্রকাশকের মতামতের প্রতিফলন।
