4.2 C
New York

নতুন চুক্তিতে তাসকিন কি ‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আগের বছরের চুক্তিতে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। এবার তিনি সেখানে থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ তিন সংস্করণের চুক্তিতে  ধরা হলেও তাসকিনকে সব সংস্করণে বিশেষ করে টেস্টে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

তাসকিন সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংস্টনে একটি টেস্ট খেলেছিলেন। এরপর গত বছরের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হোম সিরিজ, জুনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অ্যাওয়ে টেস্ট এবং নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ তিনি মিস করেছেন।

চোট ম্যানেজ করে খেলতে থাকায় তাসকিনের লাল বলের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কারণ গত বছর তিনি কোনো টেস্ট খেলেননি। ইনজরি সমস্যার কারণে ক্রিকেটে ফেরার বিষয়টি পরবর্তী মেডিকেল অ্যাসেসমেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেছেন, ‘আমরা তাসকিনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে দীর্ঘ ফরম্যাটের ব্যাপারে আবার ভাবতে বলেছি। ইংল্যান্ডে তার চিকিৎসকদের মূল্যায়নও একই রকম ছিল।’

‘তাকে দীর্ঘ ফরম্যাটে ফেরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। যখন সে নিজেকে প্রস্তুত মনে করবে, তখন খেলবে, তবে আপাতত তাকে না খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

‘সে যদি সংক্ষিপ্ত সংস্করণগুলো নির্বিঘ্নে খেলতে পারে, তবে আমরা তার টেস্ট খেলার কথা ভাবব। আমাদের সামনে পাঁচ দিনের একটি টুর্নামেন্ট এবং তারপরে বিসিএল (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) আছে, তাই দেখা যাক কী হয়। সে সব ফরম্যাটেই খেলতে চায়, কিন্তু আমাদের দেখতে হবে তার শরীর সেই অনুমতি দেয় কি না। তার অ্যাকিলিস ইস্যু ছাড়াও হাঁটু এবং কাঁধের সমস্যা ছিল, তাই এটি কেবল কাজের চাপের বিষয় নয়—আমাদের ইনজুরির দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’

গত বছর কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় ২২ জন খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। বোর্ড সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, এবার ছয়জন খেলোয়াড় যুক্ত হতে পারেন, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ২৭ জনে। সব ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্বাভাবিকভাবেই এই তালিকায় থাকবেন না।

সাকিব আল হাসান চুক্তিতে থাকবেন কি না তা নির্ভর করবে তার সঙ্গে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনার ওপর। একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে নির্বাচকরা বোর্ডের কাছে সাকিবের নাম প্রস্তাব করেননি, যদিও বর্তমান বিলম্বটি তার অবস্থান নিয়ে চলমান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন গুঞ্জন ছিল যে ‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরি পুরোপুরি বাতিল করা হতে পারে, তবে বিসিবি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে এই বিভাগটি থাকছে।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি এবং শীঘ্রই ঘোষণা করব। আমাদের কাছে এ-প্লাস, এ, বি, সি, ডি এবং একটি নন-কন্ট্রাক্ট ক্যাটাগরি রয়েছে। যদি কাউকে এ-প্লাসে রাখা না হয়, তবে তার মানে এই নয় যে ক্যাটাগরিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।’

‘যদি নির্বাচকরা এবং বোর্ড মনে করেন যে কোনো এ-প্লাস ক্যাটাগরির খেলোয়াড় নেই, তবে তারা সেখানে কারো নাম দেবেন না।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গত বছর ‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড় রাখেনি। অন্যদিকে, গুঞ্জন রয়েছে যে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এই ক্যাটাগরি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে।

গত বছর তাসকিনই ছিলেন একমাত্র তিন ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, বিসিবিও পিসিবি এবং বিসিসিআই-এর মতো একই অবস্থান গ্রহণ করে কি না।

Related Articles

Latest Articles