চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল ও পণ্য খালাস ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করতে জাহাজী সফটওয়্যার চালু করতে যাচ্ছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।
আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) কার্যালয়ে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।
সফটওয়্যারটি চালু হলে বিডব্লিউটিসিসির অধীনে পরিচালিত লাইটার জাহাজগুলোকে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে অনেক সময় লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে কোন জাহাজে কী পণ্য আছে বা কোথায় অবস্থান করছে, তা জানার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার চালু হলে কোন রুটে কতটি জাহাজ, কী পণ্য বহন করছে এবং কোথায় আছে তা জানা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন বন্দরে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের সিরিয়াল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বহু পুরোনো। পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ম্যানুয়াল থাকায় নানা অনিয়ম হয়েছে। পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী এই সফটওয়্যার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সফটওয়্যারটি বর্তমানে অনেক জাহাজ মালিক ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন। এটি এক ধরণের ট্র্যাকিং ডিভাইস। অর্থাৎ, কোন জাহাজ কোথায় আছে তা জানার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা করা হয়। এখন সব জাহাজ মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে এ সফটওয়্যার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল দিতে জাহাজের স্টাফদের একাধিক দপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে হাতে-কলমে আবেদন করতে হয়। এরপর সিরিয়াল এন্ট্রি, অ্যালটমেন্ট, পাইলটিং, ছাড়পত্র ও ড্যামারেজ সেটেলমেন্ট সবই হয় ম্যানুয়ালি।
জাহাজী সফটওয়্যারের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) অভিনন্দন জটদর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নতুন সফটওয়্যার চালু হলে এই পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় আসবে। জাহাজ নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছালেই জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিরিয়াল নির্ধারিত হবে। ফলে আর ম্যানুয়ালি সিরিয়াল দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কার্গো এজেন্টের পণ্যের চাহিদা ও উপস্থিত জাহাজের তালিকা মিলবে ডিজিটাল লটারি সিস্টেমে, যাতে পক্ষপাত বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।’
প্রতিটি লাইটারেজ জাহাজে সফটওয়্যারটির একটি ডিভাইস যুক্ত করার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
