শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ ও শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
১১ দলের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিস্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। তারা তৎপর হলে ঘটনা এতদূর গড়াত না।
সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি উসকানি দেওয়ার অভিযোগও এনেছে দলটি। সেইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের ‘ব্যর্থতা’ তদন্ত করে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদও এসেছে এই ঐক্যের পক্ষ থেকে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের পক্ষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি উৎসবমুখ পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। জুলাই বিপ্লবের পরে দেশের রাষ্ট্রকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু গতকালের ঘটনা সেই উৎসবমুখর পরিবেশকে ম্লান করে দিয়েছে।’
গতকাল বুধবার ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন রেজাউল করিম। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের বলেন, ‘আমরা মনে করি পুরো ঘটনাপ্রবাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, মারামারির সময় পুলিশ তৎপর ছিল না। পুলিশ-প্রশাসন নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তবে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন।’
অপ্রত্যাশিত এ ঘটনা পুলিশসহ গোটা প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন জুবারের।
