বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কম্পিউটারের মেমোরি বা র্যামের (র্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি) দাম। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে স্মার্টফোন ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালে স্মার্টফোনের গড় দাম ৬ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। মেমোরির বাড়তি দামের কারণে ওই বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন শিপমেন্ট বা চালানও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টারের অবকাঠামোর জন্য উচ্চ ক্ষমতার মেমোরির চাহিদা বাড়ছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, মাইক্রন ও এসকে হাইনিক্সের মতো বড় চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরির (এইচবিএম) দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। এতে সাধারণ ডাইনামিক র্যামের (ডিআর্যাম) সরবরাহ কমে গেছে, যা মূলত ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও মুঠোফোনে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব পণ্যের দাম সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে।
র্যামের দাম বেড়েছে তিন গুণের বেশি
বৈশ্বিক মেমোরি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ঢাকার খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকেরা জানান, গত কয়েক মাসে র্যাম মডিউল ও মেমোরি-নির্ভর যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের র্যামের দাম ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত অক্টোবরে যে ১৬ জিবি ডিডিআর৫ ৬০০০ মেগাহার্টজ র্যামের দাম ছিল ৭ হাজার ৮০০ টাকা, ডিসেম্বরে তা ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা এখন সেকেন্ড হ্যান্ড বা পুরোনো পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতক নাসিম রহমান জিম বলেন, ‘র্যামের দাম বাড়ার বিষয়টি অনুমিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে যে হারে দাম বেড়েছে, তা যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, র্যামের দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে স্মার্টফোন খাতে। বিশেষ করে বাজেট বা সাশ্রয়ী দামের স্মার্টফোনের ওপর এর প্রভাব হবে ব্যাপক। কারণ এসব ডিভাইসে মুনাফার হার কম থাকে এবং কম দামের মেমোরি ব্যবহার করা হয়। ফলে উৎপাদনকারীরা দাম বাড়ানো বা স্পেসিফিকেশন কমানো ছাড়া আর কোনো উপায় পাবেন না।
