29.6 C
Dhaka

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার

রাশিয়ার চার বছরের আগ্রাসনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনের আগামী এক দশকে প্রায় ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ২০২৫ সালের জিডিপির প্রায় তিন গুণ।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজ সোমবার বিশ্বব্যাংক, ইউক্রেন সরকার, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনর্গঠনে ইউক্রেনের ব্যয় গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। অসংখ্য শহর ও জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার বিধ্বংসী হামলায় লাখো মানুষ তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যাতে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের প্রতি সাতটি বাড়ির মধ্যে একটিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্গঠনের ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি—আনুমানিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এরপর জ্বালানি ও আবাসন খাতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া ধ্বংসাবশেষ এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন হবে ২৮ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মুখসারির দোনেৎস্ক ও খারকিভ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। রাজধানী কিয়েভের পুনরুদ্ধারে লাগবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভের পশ্চিমা মিত্ররা দেশটিকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জার্মানিভিত্তিক কিয়েল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইউক্রেনকে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক, সামরিক ও মানবিক সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Articles