29 C
Dhaka

চন্দ্রাভিযানের নাম কেন আর্টেমিস

প্রায় ৫০ বছর পর আবার মানুষ নিয়ে চন্দ্রাভিযানে গেছে নাসার মহাকাশযান। দশদিনের এই মিশনে চার নভোচারী চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ করবেন। কিন্তু তারা চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবেন না। নাসা মিশনের নাম দিয়েছে আর্টেমিস-২। কিন্তু কীভাবে এই নামকরণ করা হলো এবং আর্টেমিস কে?

স্পেস ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্টেমিস নামটি নেওয়া হয়েছে গ্রিক পুরাণ থেকে।

গ্রিক পুরাণে আর্টেমিস হলেন গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর যমজ বোন। তিনি চাঁদ, শিকার ও বনের দেবী। রোমান পুরাণে তাকে বলা হয় ডায়ানা। পুরাণ অনুযায়ী, আর্টেমিস জিউস ও লেটোর কন্যা।

আর্টেমিস ছিলেন স্বাধীনচেতা ও দৃঢ়রক্ষক। প্রকৃতির সঙ্গে ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক। আর্টেমিসের এই গুণগুলোর সঙ্গে নাসার ভিসনের মিল আছে। এই অভিযানের নামকরণ করার পেছনে এটি একটি কারণ।

আর্টিমিসকে প্রায়ই ধনুক, আবার কখনও কখনও একটি হরিণ হাতে দেখানো হয়।

স্পেস ডটকম বলছে, অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের মাঝামাঝিতে অবতরণ করেছিল। কিন্তু আর্টেমিস-৩ ও ভবিষ্যতের মিশনগুলো চাঁদের দক্ষিণ দিকে অনেক দূর যাবে। তারপর সেখানে ছায়াযুক্ত গহ্বর ও নতুন চাঁদের ল্যান্ডস্কেপ খুঁজে দেখা হবে।এগুলো আর্টেমিসের গুণের সঙ্গে মিলে যায়।

সহজভাবে বললে, আর্টেমিস দেবীর কিছু বিশেষ গুণ আছে, যেমন রক্ষা করা এবং নতুন কিছু তৈরি করা। এই গুণগুলো নাসার কাজের সঙ্গে মিলে যায়। নাসা চায় তার অভিযান টেকসই হোক, মানে দীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে চলুক। তারা আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশের সঙ্গে মিলেই কাজ করতে চায়। আর দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদে মিশন চালানোর পরিকল্পনাও করছে। 

মোট কথা, দেবীর এই গুণগুলো নাসার লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে মিলেছে।

এছাড়াও নাসা আর্টেমিসকে নারীর প্রতীক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে। এটা এই মিশনের আরেকটি অন্যতম লক্ষ্য ছিল এবং এবারই প্রথম চাঁদে নারী নভোচারী পাঠানো হয়েছে।

দেবতা অ্যাপোলো ছিলেন আর্টেমিসের যমজ ভাই। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, অ্যাপোলো সূর্য, আলো, সংগীত ও ভবিষ্যদ্বাণীর দেবতা। মহাকাশ ইতিহাসে তার নাম নাসার প্রথম চন্দ্রাভিযানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত এই মিশন চালু ছিল এবং শেষপর্যন্ত ছয়টি মিশন সফলভাবে চাঁদ অবতরণ করতে পেরেছিল।

অ্যাপোলো মিশনগুলো প্রমাণ করেছিল যে, মানুষ অন্য গ্রহে যেতে পারে এবং নিরাপদে ফিরে আসতে পারে। এটি ছিল প্রযুক্তিগত বড় সাফল্য। বিশেষ করে অ্যাপোলো-১১ এর কথা বলতেই হয়। এই মিশনটি ১৯৬৯ সালে মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চাঁদে অবতরণ করেছিল।

অ্যাপোলো ও আর্টেমিসের জুটি কেবল কবিতার মতো নয়। পুরাণে এই ভাইবোন আলো-অন্ধকার এবং সূর্য-চাঁদের ভারসাম্য রক্ষা করে। আর মহাকাশ অভিযানে অ্যাপোলো হলো মানবজাতির ইতোমধ্যে অর্জিত সাফল্য। অন্যদিকে আর্টেমিস হলো আগামী, যা বিজ্ঞান অর্জন করতে যাচ্ছে, তারই প্রতীক।

Related Articles

Latest Articles